মেয়ের সঙ্গে কী করেছিল তৃণমূলের নেতারা, ভয়ানক তথ্য দিলেন নির্যাতিতার বাবা

খবর

রিমি রায়ঃ মঙ্গলবার রাতে বাগনানের গোপালপুর গ্রামের এক তরুণীকে তাঁদেরই বাড়ির ছাদে ধর্ষণের চেষ্টা করে বাগনান-২ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য রমা বেরার স্বামী কুশ এবং তার শাগরেদ বাচ্চু মণ্ডল । তরুণীর চিৎকারে তাঁর মা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠতে গেলে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বুধবার মারা যান তরুণীর মা।
মূল অভিযুক্ত তৃণমূল সদস্য রমা বেরার স্বামী কুশ বেরার বাড়ি থেকে উড়ে আসা কাটারির ঘায়ে এক কিশোরের জখম হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার আরও উতপ্ত হল বাগনানের পরিস্থিতি। কুশের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকেও গ্রেফতারের দাবি তুলল সাধারণ মানুষ। ভাঙচুর চালানো হল তৃণমূল সদস্য রমা বেরার বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার মৃতার দেহ নিয়ে উলুবেড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পরে বিজেপি। দুই অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী যাতে না-দাঁড়ান, সে দাবিও তোলেন তারা। তার পরে দেহ গোপালপুরে ফিরিয়ে এনে কুশের বাড়ির সামনে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ । গ্রামবাসীরাও শামিল হন তাতে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কুশের এক ছেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ছোড়ে কাটারি । তা লাগে এক কিশোরের পায়েও। এর পরেই কুশের স্ত্রী রমা এবং তাঁর দুই ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তারপর র‌্যাফ ও পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ দেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যেতে চাইলেও গ্রামবাসীরা বাধা দেন। পুলিশ কুশের স্ত্রী-ছেলেকে ধরার প্রতিশ্রুতি দিলে তাতে তাঁরা শান্ত হন।
আক্রান্ত তরুণী উলুবেড়িয়া আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন এ দিন । তারপর দুই ধৃতকে ১৪ দিন জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
এ দিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে সঙ্গে এলাকার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশও কুশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, স্ত্রী দ্বিতীয় বার পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার পর থেকেই কুশের দাপট বাড়তে থাকে এলাকায়। সালিশি বা গ্রাম্য বিচারে তিনিই বলতেন শেষ কথা। প্রতিদিন রাতে কিছু শাগরেদকে নিয়ে রাস্তার ধারেই সে মদের আসর বসাতেন। প্রতিবাদ করলেই দিতেন হুমকি। এমনকি কথায় কথায় মারধরও চলত । চলত তোলাবাজিও। কুশের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল বলেও দাবি অনেক স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *