আজ পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন, কীভাবে হয়েছিল বাংলার জন্ম জানুন

খবর রাজনীতি-সামাজিক

আপনি কি জানেন পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন কবে এবং কেন তা পালন করা উচিত ?
● অন্ধ্র, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কেরল ও ছত্তিসগড় রাজ্যগুলির প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করলেও আমরা ভুলে গেছি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ২০শে জুন।
● ১৯৪৬-৪৭ এ মুসলমান নেতৃত্ব সম্পূর্ণ বঙ্গের পাকিস্তানভূক্তি দাবী করলে রাজ্যের সকল জাতীয়তাবাদী মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেই সময় ভারতকেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদের ভাবনা ছিল – পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা । বাংলার কংগ্রেস দল ও আপামর বাঙালী তাকে সমর্থন করল।
● ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বুঝেছিলেন যে বাঙালি হিন্দুদের অনন্তকাল মুসলিম শাসনে থেকে জাতিগত বিলুপ্তি এড়াবার একমাত্র উপায় হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ নামক প্রদেশ গঠন করে তাকে ভারত রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত করা।
● ৯ই মার্চ, ১৯৪৭ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটি বিস্তারিত দলিল প্রকাশ করে বোঝালেন যে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবি কখনওই ঘৃণ্য পাকিস্তান দাবির সমর্থক নয়, বরং পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলার খানিকটা ছিনিয়ে এনে বাঙালি হিন্দুর মুক্তচিন্তার পীঠস্থান গঠনের প্রচেষ্টা।
● যেখানে পুরো বাংলাই মুসলিম সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের খপ্পরে চলে যেতে বসেছে, সেখানে বাংলার হিন্দুদের অধিকার আছে তার হিন্দুপ্রধান অংশটা ছিনিয়ে নেবার।
● ২ মে ১৯৪৭ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে একটি দীর্ঘ চিঠিতে লিখে জানিয়েছিলেন যে তিনি পাকিস্তান প্রস্তাবের কট্টর বিরোধী এবং অখন্ড ভারতের পক্ষে। কিন্তু যদি মুসলিম লীগের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠন করা হয়, তাহলে গোটা বাংলাকেই পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
● ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গ আইনসভার সদস্যরা ৫৮-২১ ভোটে বাঙালী হিন্দু হোমল্যান্ডের পক্ষে ও পাকিস্তানে যোগদানের বিপক্ষে ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ গঠন সুনিশ্চিত করেন।
● পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, শ্রী বিধানচন্দ্র রায়, ভাষাবিদ ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, বিজ্ঞানী ডঃ মেঘনাদ সাহা, ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকার, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার, নেতাজী সহযোগী ও কৃষক নেতা হেমন্ত সরকার প্রমুখ।
● প্রবল জনমতের সাক্ষ দিয়েছিল অমৃতবাজার-যুগান্তর পত্রিকা গোষ্ঠী, আনন্দবাজার পত্রিকা, দৈনিক বসুমতি, Modern Review ও প্রবাসী গোষ্ঠী।
● অমৃতবাজার পত্রিকার বিখ্যাত জনমত সমীক্ষায় দেখা যায় রাজ্যের ৯৮.৩% হিন্দু তাদের জন্য এক পৃথক রাজ্য চান। বুদ্ধিজীবি থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ পশ্চিমবঙ্গের দাবীতে আন্দোলন করতে থাকেন।
● ডঃ বাবা সাহেব আম্বেদকর, মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান শ্রী প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর এবং উত্তরবঙ্গের তপশীলি নেতা ও বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য শ্রী প্রেমহরি বর্মন বাঙালি হিন্দুর বাসভূমি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনের পক্ষে জোরালো সমর্থন করেন।
● বঙ্গীয় আইনসভার কমিউনিষ্ট সদস্যরা সমগ্র বাংলার পাকিস্তানভুক্তির পক্ষে ও পশ্চিমবঙ্গ গঠনের বিপক্ষে ভোট দেন।
● ২০শে জুনের দিন থেকে অমুসলমান আমলারা সুরাবর্দীর পরিবর্তে শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষকেই বঙ্গের প্রথম হিন্দু মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে রিপোর্ট করতে শুরু করেন। জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের।
● বঙ্গের ইতিহাসে ১৯৪৭ এর ২০শে জুনই সর্বপ্রথম বাঙালি সমাজ একজন হিন্দু নেতৃত্বকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বরণ করে নিল।
● ১৯৪০-এর দশকে শিক্ষা ও চাকরী ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ইসলামী রাষ্ট্রের যে বীজ বপন করা হয়েছিল আজ পশ্চিমবঙ্গে সেই বীজ পুনরায় রোপিত হচ্ছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে যে গ্রেট-ক্যালকাটা গণহত্যা বা নোয়াখালির পুনরাবৃত্তি হবে না তা কে বলতে পারে ?
“20শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হল বাঙালি হিন্দুর বিজয় দিবস। তাই আসুন সকলে মিলে আনন্দের সাথে গর্বের সাথে এই দিনটিকে আমরা স্মরণ করি। আর আমাদের পিতা ও পিতামহের প্রচেষ্টায় তৈরি হিন্দু হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও অখন্ডতাকে অম্লান ও অক্ষত রাখার দৃঢ় সংকল্প গ্রহন করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *