“দল আমাকে হারানোর চক্রান্ত করছে”- বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল বিধায়ক উদয়নের

খবর রাজনীতি-সামাজিক

রিমি রায়-করোনা আবহের মধ্যেও একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে দেশ জুড়ে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলি শুরু করে দিয়েছে রণকৌশল। কী হবে, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরেও। এমনকি নির্বাচন প্রস্তুতিতে শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল সভাও। দৌড়ে পিছিয়ে নেই রাজ্যের শাসকদলও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই বিধায়কদের জিজ্ঞেস করে ফেলেছেন যে, কে কে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হতে আগ্রহী।শাসকদলের প্রায় সকলেই নির্বাচন লড়তে প্রস্তুত এমনটাই বুঝেছেন তিনি। সেই মতো তিনি ঘোষণাও করেছেন যার যার কেন্দ্রে সে সে থাকছেন তেমন কোন রদবদল নেই দলে। কিন্তু তাঁর মধ্যে অন্য সুর শোনা গেল দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহর গলায়। দলীয় বৈঠকে সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি আর বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন না ।
সোমবার দিনহাটার তৃণমূল নেতৃত্বদের মধ্যে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকেই দলের নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন বিধায়ক। আক্রমণাত্মক সুরে এও বলেন, দল তাঁকে হারানোর জন্য চক্রান্ত করছে। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এমনকি দলকেও উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। স্থানীয় এক নেতার উদ্দেশ্য তিনি বলেন, “ওই নেতা আমাকে পরাজিত করতে এককোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে!” এদিনের বৈঠকে কর্মীদের বিঁধে বিধায়ক আরও বলেন, “চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারবেন না।” শুধু তাই নয়, দলের একাধিক অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের কাছে তাঁদের বদলির আবেদনও করেন ।
তবে বিধায়কের মন্তব্যে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব স্পষ্ট তা মানতে নারাজ তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। তিনি বলেছেন, “উদয়ন বাবু অভিমানেই হয়তো দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে দল যদি চায় তাঁকে প্রার্থী করতে তিনি নিশ্চয়ই রাজি হবেন।” পাশাপাশি, হারানোর চক্রান্তের বিষয়টি নিতান্ত বিধায়কের আবেগ এবং ব্যক্তিগত মত বলে মন্তব্য করেছেন জেলা সভাপতি। আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্ত বিষয়টি মিটে যাবে বলে আশা তাঁর। এইদিন বৈঠকে উদায়ন বাবু সমস্তরকম দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলেন।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *