অবাক কান্ড! ভিন্ন শরীরে অভিন্ন হৃদয় নিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে জন্ম যমজের

খবর লাইফস্টাইল

রিমি রায়- সত্যি অবিশ্বাস্যকর ঘটনা। চিকিৎসকদের মতে বিশ লাখে এরম ঘটনা ঘটে একটি। হৃদযন্ত্র একটি হলেও শরীর দুটি। ‘একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই’ বেরিয়ে এল মায়ের পেট থেকে। হৃদযন্ত্র জোড়া থাকা অবস্থায় NRS-এ জন্ম হল যমযের। করোনা আবহে সবরকম নিরাপত্তা আর প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার বাগুইআটির বাসিন্দা ২১ বছরের অনিমা ঘোষের অস্ত্রোপচার হয় NRS-এ।হাসপাতাল সূত্রের খবর যমজ দুই সদ্যোজাত আপাতত SNCU-তে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছে । সদ্যোজাতরা এবং মা তিনজনই সুস্থ আছেন।
এরকম ঘটনা অনেকেই হয়তো চাক্ষুষ করেছেন সিনেমায়।তবে বাস্তবে সত্যিই এই ঘটনা অবিশ্বাস্য।তবে একই হৃদযন্ত্র এবং ভিন্ন শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া এই যময সদ্যোজাতরা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেখানকার প্রসূতি ও শিশু বিভাগের একদল চিকিৎসককে।কিভাবে এই সদ্যোজাতদের সাধারন জীবনে ফেরানো যায় সেই নিয়ে হাসপাতালের অন্দরে চলছে লড়াই। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে NRS-এর চিকিৎসকরা।লড়াই অভিন্ন হৃদয়কে ভিন্ন করা। দুটি ভিন্ন শরীর হলেও দুজনের বুক জোড়া লেগে রয়েছে একে অপরের সঙ্গে। জোড়া লেগে থাকা হৃদযন্ত্র থেকেই দুটি শরীরেই প্রবাহিত হচ্ছে রক্ত । চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘থোরাকফ্যাগাস’।
চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাস বলছে লক্ষাধিক শিশু জন্মানোর পর এরম বিরল জন্ম নেয়। NRS মেডিকেল কলেজের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক দেবরাজ বসু জানান, “রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং বিষয়। ওই যমজ শিশুর জন্মের পর SNCU-তে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের অধীনে সযত্নে রাখা হয়েছে। মা ভালো আছেন। এধরনের কনজয়েনড টুইন বেবি খুবই বিরল। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ শিশু দুটিকে আলাদা করে সুস্থ জীবনে ফেরানো। কিছুদিন পর আল্ট্রাসোনোগ্রাফি এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে দেখা হবে হৃদযন্ত্রের অবস্থান। অতি জটিল বা জটিলতম অস্ত্রোপচার করে যমজ শিশু দুটিকে আলাদা করার পরিকল্পনা আছে। হৃদযন্ত্র একটি হলে অপেক্ষাকৃত যে শিশুর বাঁচার সম্ভাবনা বেশি তার দিকে রেখে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। আমাদের NRSমেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মুখে দাঁড়িয়ে। অন্য শিশুটিকে বাঁচাতে দরকার সদ্যোজাতের উপযুক্ত হৃদযন্ত্র জোগাড় করে তা প্রতিস্থাপন। সেটা হয়তো সম্ভব নয়। আমাদের চিকিৎসকেরা সবরকম পরিকল্পনা করছেন।” করোনা আবহের মধ্যে বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ঐ প্রসূতিকে।তারপর NRS-এ দেবরাজ বসুর নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক তনুশ্রী রায়, স্মৃতি রাজ, অনির্বান রায় সহ পুরো ইউনিট।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সুকান্ত দাস বলেন, “এ ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটোকল আছে কিভাবে অস্ত্রোপচার করা হবে। বিষয়টি অত্যন্ত বিরল বললেও কম বলা হয়। এক্ষেত্রে একটি শিশুর বাঁচার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে সেক্ষেত্রে বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে সবটাই সিদ্ধান্ত নেবেন একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যেখানে পেডিয়াট্রিক সার্জারি, পেডিয়াত্রিক কার্ডিয়লজি, মেডিসিন এবং নিউরো ডক্টর থাকবেন। তবে এখনই নয়। কয়েক মাস পরে এই শিশুদের অস্ত্রপচার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রেও দেখতে হবে অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত হয়েছে কিনা।” সদ্ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অরুণ সিংহ জানান, “অত্যন্ত জটিল বিষয়। একটি হার্ট, দুটি শিশু এমনটা দেখিনি। পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আরও সময় প্রয়োজন। শিশুকে আরেকটু বড় করতে হবে। যদি তারা বেঁচে থাকে তখনই পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগ কিভাবে অস্ত্রোপচার করবে তারা ঠিক করবেন।”
তবে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই চির বিদায় নিল সদ্যোজাতরা। দুটি শরীরে একটিমাত্র হৃদপিণ্ড হওয়ার দরুন পরিশুদ্ধ রক্তে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তাদের আর তার জেরেই একটি বাচ্ছা মারা যাওয়ার ১ মিনিটের মধ্যেই মারা গেল অন্যজন।