দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে বাঁচান, প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচদফা সুপারিশ চিঠি সনিয়া গান্ধীর

ব্যবসা

দীপক মুখার্জী : ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলোকে গুরুত্বের সাথে সুরক্ষা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কগ্রেস সভানেত্রি সনিয়া গান্ধি। রবিবার তিনি এ ব্যাপারে একাধিক বিষযে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে এক কথায় এমএসএমই বলা হয়। দীর্ঘকাল ধরেই এই শিল্পসংস্থাগুলো আর্থিক সংকটে ধুকছে। এই সংকটের কবলে অনেকগুলো সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় দেশের ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।তার উপরে চলতি লকডাউন আবহে এই শিল্পর ভবিষ্যৎ আরো কঠিন অবস্থায় গিযে ঠেকেছে।

তাইতো এই শিল্পকে বাঁচাতে পাঁচদফা সুপারিশ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি লিখেছেন, “প্রথমে এমএসএমই বর্জ্য সংরক্ষণের স্বার্থে এক লক্ষ কোটির প্যাকেজ ঘোষণার দাবী জানিয়ে বলেন এই প্যাকেজ বিপর্যয় পরবর্তী পর্যায়ে এই শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। দ্বিতীয় দফায় তিনি এই শিল্পের জন্য এক লক্ষ কোটির ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষুদ্র সংস্তাগুলোর পরিধি ব্যাপ্তির সময় নগদের প্রয়োজনে এই টাকা কার্যকরী ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত মূলধন মজুত থকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বিশ্বাস বজায় থাকবে।

তিন নম্বর সুপারিশ হিসেবে সনিয়া গান্ধি বলেছেন, “এমএসএমই গুলোকে সুরক্ষ দিতে ইতিমধ্যে একাধিক ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কার্যকরী হয়। ” চতুর্থ ও পঞ্চম সুপারিশে হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, “তিন মাসের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঋন স্থগিত রাখার (মোরাটরিয়াম) যে ঘোষণা করেছেন, সেই ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেই ক্ষুদ্র শিল্পসংস্থা গুলোককে ছন্দে আনা ও তাদের হাতে পর্যপ্ত পূঁজির জোগান রাখার স্বার্থে ঋণ স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবী জানিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি বলেছেন শুধু ঋণ গ্রহণের কারণে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত কারণে এমএসএমই গুলোকে একাধিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে মূলধন সঙ্কটের কবলে পরে ছোট ছোট এই সংস্থাগুলোর আস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাদের যেন কোন সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে সভানেত্রী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে সনিয়া গান্ধি উল্লেখ করেছেন, দেশের মোট জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ-র অবদান রাখা ছাড়াও এই ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলো রফতানির ৫০% সামগ্রি সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি বছরে ১১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে তারা। তাই নানাভাবে এই সংস্থাগুলোর সংরক্ষণ ও পরিসর বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রযোজনিয় উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সনিয়া গান্ধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *