শুভেন্দুর ‘জনপ্রিয়তা’র আঁচ টের পেলেন পিকে, তৃণমূলের কাছে অশনি সংকেত একুশে ভোটের আগে

খবর রাজনীতি-সামাজিক

কথায় আছে, তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে যদি কোনও জননেতা থাকেন, তিনি হলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দু অধিকারী এখন তৃণমূলে ব্রাত্য! তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েই চলেছে তৃণমূলের। এই অবস্থায় পিকের টিমের কর্মীর ফোন পেয়ে শুভেন্দু-অনুগামী যা জবাব দিলেন, তা শুনে ‘থ’ হয়ে গেলেন প্রশান্ত কিশোর!
তৃণমূলের এক কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য সহযোগিতা চেয়ে জেলার এক তৃণমূলকর্মীকে ফোন করেছিলেন প্রশান্ত কিশোরের টিম আই প্যাকের এক সদস্য। পিকের সংস্থার কর্মীর ফোন পেয়ে শুভেন্দু অনুগামী সপাটে জবাব দিলেন, সহযোগিতা করলে আমরা কী হবে! আমি কি কোনও টাকা পাবো?
এখানেই শেষ নয়। ওই শুভেন্দু-অনুগামী সাফ জবাব দিলেন, প্রশান্ত কিশোর তো বলেছেন, রাজনীতিকে যদি কর্মক্ষেত্র বানাতে চান তাহলে যোগ দিল। আমি তাহলে রাজনীতিকে কর্মক্ষেত্রে বানাতে চাই! পিকের সংস্থাকে এর আগে বেগ পেতে হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে কর্মসূচি রূপায়ণে গিয়ে। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে গিয়েও যে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে ভাবেননি তিনি।
শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম সফরেও পাশে দেখা যায়নি শুভেন্দু অধিকারীকে। আর প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর টিম এবার টের পাচ্ছে শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা জেলা ছাড়িয়ে অন্য জেলাতেও যথেষ্ট রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বোধহয় আর কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাবে না।
প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মীকে ক-দিন আগেই হেনস্থা হতে হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। তারপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা তো আছেই। সে পূর্ব মেদিনীপুর হোক বা পশ্চিম মেদিনীপুর কিংবা মুর্শিদাবাদ বা অন্যান্য জেলায়- সর্বত্রই শুভেন্দু অনুগামীদের আঁচ বোধ করছেন প্রশান্ত কিশোর।
তৃণমূলের এক পক্ষের দাবি, তৃণমূলের ওই কর্মী দিদিকে বলো কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ফলে পিকের সংস্থার কাছে তাঁর নম্বর ছিল। সেখান থেকেই ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মী যে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী এমন কোনও তথ্য নেই বা জানা নেই। তবে বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনা তৃণমূলের কাছে অশনি সংকেত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।