দুর্গাপুরে করোনা আবহে দুর্গাপূজা , বিরক্ত দুর্গাপুরবাসী !

উৎসব-সংস্কৃতি খবর

পবিত্র চক্রবর্তী : বন্ধ মহারাষ্ট্রে গণেশ পূজা , বন্ধ ছিল পুরীর রথযাত্রা , ছিল স্তব্ধ ঈদের জমায়েত । দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা চিত্রালয়ের মেলার মত জমায়েত সেটিও ছিল বন্ধ । মূল কারণ আমাদের সকলেরই জানা , করোনার হাত থেকে পরিবার-পরিজনকে বাঁচানো । কিন্তু এরই মাঝে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে হয়ে গেলো ” খুঁটি পুজো ” কারণ দুর্গাপূজা ।
সূত্র মারফত খবর , ফুলঝোড় , চতুরঙ্গ ময়দান এবং মার্কোনিতে হবে দুর্গাপূজা। আর এতেই অবাক হয়েছে প্রাণের শহর দুর্গাপুর।

যেখানে দুর্গাপুর কোর্ট দীর্ঘকাল স্তব্ধ , সাধারণ জনজীবন নাজেহাল , মিনিবাসের আনাগোনা নেই ভাইরাসের আতঙ্কে সেখানে কী করে দুর্গাপূজার মত কথা ভাবতে পারলো পুজো কর্তৃপক্ষ ? প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন দুর্গাপুরের বেশ কিছু প্রবীণ বাসিন্দারা এবং নবীন তথা ইয়াং প্রজন্ম । এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড পুজো কমিটিদের সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বর্তমানে । এ কথা স্বীকার্য ওই তিনটি পুজোতে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত , দোকানের সারি যে বসে এ কথা সকলের অজানা নয় । পুজোর ওই কটা দিন বিক্রেতাদের বিক্রিবাটায় কিছুটা রোজগার হয় । বহু মানুষের জীবন ছন্দোবদ্ধ হয়, মুখে হাসি ফোটে। তবে, এর সাথে দুর্গাপুরবাসী এবং পুজো কর্তৃপক্ষকে ভাবা উচিত অজান্তে করোনাকে গোষ্ঠী সংক্রমণ করার দায় নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিচ্ছেন না তো? যদি সংক্রমণ আরও বেড়ে যায় তখন আপনারা দায়িত্ব নেবেন তো পরিষেবা দেওয়ার। যদি স্বয়ং আপনি ও আপনার নিকট পরিজন মারা যান নিজেদের ক্ষমা করতে পারবেন তো?

জনৈক দুর্গাপুরবাসী সানডে টাইমস কলকাতাকে বলেন , “চাঁদার টাকায় দরিদ্রদের সেবা, মৃত্‍-শিল্পীদের হাতে কিছুটা টাকা তুলে দেওয়া বা সীমান্তে মৃত সৈনিকদের জন্য কিছু ভাবলে ঈশ্বর সাধনা বেশী হত। চটকদারী দুর্গাপূজার চিন্তা থেকে এ বছর না হলেই ভালো। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *