Saturday , 18 , Sep-2021

Top Stories
  1. পাঞ্জাবে ভেঙে গেল কংগ্রেস সরকার, গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে পদত্যাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং
  2. আগরতলা ঠান্ডা করতে, বিজেপিকে শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছেলে পাঠানো হবে, বললেন তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ
  3. রাজ্যের আপত্তি, পশ্চিমবঙ্গে লাগু হল না পেট্রোল-ডিজেলে GST, দাম আরও বাড়বে
  4. বদলে গেল দেশের শ্রম আইন, এবার থেকে 12 ঘণ্টা কাজ
  5. ভেঙে গেল বাম-কংগ্রেস জোট, ঘোষণা ইয়েচুরির
  6. ভোটের আগে মানিক সরকার-বিপ্লব দেব-রামমাধব একান্ত বৈঠক, চরম অস্বস্তিতে সিপিএম
  7. মোদীকে শেষ করে দেব, প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফর নিয়ে হুমকি জঙ্গি গোষ্ঠীর
  8. তৃণমূলকেই ভোট দিন, আবেদন খোদ সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
  9. ঈশানের বাবা যশ, অবশেষে কাটল সব ধোয়াশা, স্বীকার করলেন নুসরত
  10. কোটি টাকার উত্তমকুমার এখন কার হাতে, শুরু আইনি লড়াই
inner-page-banner

সংসার সঙ্গমে 

শান্তনু দে

"তুমি বলো"
"না না তুমি..."
"না তুমি"
"নাহহ্ বলছি তো তুমি!"
"না তুমি..."

অফিস ফেরত বাড়ি ফিরছি। শাটল সার্ভিস। আমার পাশে এক কপোত কপোতী, সপ্তপদী সপ্তপদী খেলছে। 
হটাৎ মোবাইলে পিং এল,"কোথায় তুমি?"
পাশের সিটের প্রভাবে বেখেয়ালে লিখে ফেললাম,"তুমিই বলো!"
ওপ্রান্ত থেকে ঝাঁঝালো উত্তর এল,"মরণ! যেখানেই থাকো আসার সময় ... থাক। আনার হলে নিজেই আনবে।"
"আরে কী আনতে হবে সেটা তো বলো!", পিং করলাম।
উত্তর এল,"সবই যদি বলে দিতে হয় তাহলে নিজে কবে শিখবে!"
মোবাইলে দেখলাম ম্যাডাম অফলাইন হয়ে গেলেন। পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবন। জানি ফোন করে লাভ নেই। কী আনতে হবে সেই বিষয়ে মনোনিবেশ করলাম। বাজার তো সকালেই করেছি। আত্রেয়ী মাটন আনতে বলেছিল, সেটা এনেছি। সেই সাথে আত্রেয়ীর পছন্দের বাটা মাছও কিনে এনেছিলাম। ও কচি জিনিস খেতে পছন্দ করে, এই যেমন বাটা মাছ, কচি পটল কিংবা আমার মাথা। নাহ্ আর কী আনতে হবে কিছুতেই মনে পড়ছে না। 


"...এই তাহলে তুমি ১৪ তারিখ অফিসে ছুটি নিচ্ছো তো? আমি সিক লিভ নেব ঠিক করেছি।"
"হ্যাঁ সোনা, এক্কেবারে।"

পাশের সিটের কপোত-কপোতী কথা বার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। 
যাক আজ তাহলে ১৪ তারিখও নয়। ভ্যালেনটাইন ডে হলে এত রাতে গোলাপ কেন, গাঁদা ফুলও পাওয়া যাবে না। জ্যাম জমাট রাস্তা পেরিয়ে যখন গন্তব্যে পৌঁছলাম, তখনও মাথায় আসেনি কী আনতে হবে। সেফটি মেজার হিসাবে পাড়ার দোকান থেকে একটা মিল্কিবার কিনলাম। সস্তায় পুষ্টিকর। আত্রেয়ীর বিশেষ প্রিয়। যদি সত্যিই কিছু ভুলে থাকি, এটা দিয়েই শেষ রক্ষা হবে।

দুই: 

বেল বাজাতেই গান শুরু হল,"বড় আশা করে এসেছিগো কাছে ডেকে লও.."
এবাড়ির সব কিছুই আত্রেয়ীর পছন্দের। মায় এই কলিং বেলটা পর্যন্ত। এক একবার টিপলে এক এক রকম গান বাজে। তবে সাহস করে আজকাল আর দুবার টিপি না। বারবার কলিং বেল টেপা ও এক্কেবারে পছন্দ করেনা। দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আত্রেয়ী একবার আপাদমস্তক আমায় দেখল। আমার ডান কাঁধে অফিস ব্যাগ আর বাম হাতে জ্যাকেট। ওর দেখাদেখি আমিও নিজেকে একবার আপাদমস্তক দেখে নিলাম। খুব কনফিউজড লাগছে। নিশ্চয়ই ভাবছে আমার হাতে সেই জিনিস কই যেটা আমার আনার কথা। খালি চোখে আমার পোস্টমর্টেম করে ভেতরে চলে গেল। আমি দরজা লাগিয়ে জুতো-মোজা খুলে সোফায় গিয়ে বসলাম। 
"এক গ্লাস জল দেবে?"
আত্রেয়ী একগ্লাস অরেঞ্জ স্কোয়াশ নিয়ে এল। 
"অরেঞ্জ স্কোয়াশ! ব্যাপার কী?"
"আজকের দিনে তুমি শুধু অফিস ব্যাগ হাতে ঘরে ঢুকতে পারো, আমি তো শুধু আর জল খাওয়াতে পারিনা। আমার মত বউ পেয়েছ বলে..."
বেশি কথা না বাড়িয়ে ওর হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে নিয়ে চুকচুক করে খেতে শুরু করলাম। বুকটা ঢিবঢিব করছে। 
আত্রেয়ী সাধারণত ঝগড়া করেনা। কিন্তু খুব অভিমানী। কথা বার্তা বন্ধ করে দিতে পারে। তার থেকেও ভয়ঙ্কর রান্নাবান্না বন্ধ করে দিতে পারে। আমাদের অফিস ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে জীবন অতিবাহিত করার থেকে নাগা সন্ন্যাসী হয়ে না খেয়ে কাটিয়ে দেওয়া ভালো। সন্ন্যাসীরা কি খায় না? আমি বিশেষ খেতে দেখিনি। খাওয়া-দাওয়াও তো জাগতিক মোহ মায়ার মধ্যেই পরে। কীসব আবোল তাবোল ভাবছি জানিনা। সুরুৎ করে টাওয়ালটা নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলাম।

গিজারের গরম জলের সাথে হালকা ঠান্ডা জল মিশিয়ে শাওয়ার এর নিচে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকলাম, কী ভুলতে পারি।
নাহ্ আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকীও না। মহা জ্বালা। অফিসের বক্সীদাই ঠিক করেছে। আজীবন ব্যাচেলর। এরকম অজানা ভোলার সমীকরণ নেই বক্সীদার জীবনে। তবে আমি যে ব্যাচেলর থাকতে চেয়েছিলাম এরকম নয়। সংসার আমার ভালোই লাগে। বিশেষ করে আত্রেয়ী বউ হিসাবে খুবই ভালো। আমার অফিসের বাকি কলিগরা আত্রেয়ীর হাতের রান্না চেখে আমায় হিংসেই করে। আমি মনে মনে খুশি হই। 
...

"রান্না রেডী হয়ে গেছে। তোমার আর কতক্ষন?", আত্রেয়ীর আওয়াজ এল।

জবাব দিলাম,"এই তো... আসছি।"

তিন:

স্নান সেরে পাজামা গলিয়ে খাবার টেবিলে এসে চক্ষু ছানাবড়া।নির্ঘাত আজ স্পেশাল কিছুই। টেবিলে আমার প্রিয় নবরত্ন পোলাও আর মাটন রেজালা। এক সাইডে কাঁচের বাটিতে রাবড়ি রাখা। নিশ্চয়ই ভি আই পি সুইটস-এর। লাস্ট এই মেনু আমার জন্মদিনে বানিয়েছিল আত্রেয়ী। চমকে উঠলাম, আজ আত্রেয়ীর বার্থডে নয়তো? মনে মনে তাড়াতাড়ি ভেবে দেখলাম নাহ্ সেটাও নয়। চেয়ার টেনে বসেই পড়লাম। অনেক হয়েছে। টেবিলের উল্টোদিকে আত্রিয়ীর মুখে হালকা হাসিই লাগছে। নাকি আমার চোখের ভুল। 
"ঠান্ডা হয়ে যাবে! শুরু করো", মিষ্টি হেসে আত্রেয়ী বলল। নাহ্ তাহলে চোখের ভুল নয়। কিন্তু আধঘন্টা আগেও আত্রেয়ীর মুখ গম্ভীর ছিলো। হাসি-কান্না-রাগ... সবই সংসারিক মায়া বোধহয়, আত্রেয়ীর মতোই ভীষণ ছলনাময়ী।

প্লেটে আত্রেয়ী গরম পোলাও ঢেলে দিতেই খাবারে মনোনিবেশ করলাম। ভুরভুর করে গোবিন্দ ভোগ চাল আর ঘিয়ের গন্ধ বেরোচ্ছে। সাথে হাতে করে মাটন রেজালাটা হালকা মুখে তুলেই বুঝলাম অতুলনীয়। এ জিনিস পাঁচতারা রেস্তোরাঁকেও অবলীলায় হার মানায়। অন্যদিন খাবার সময় টিভি সিরিয়ালের দিকে মন চলে যায়। আজ টিভি চলছে, কিন্তু মনটা পোলাও মাংসে পড়ে। হালকা চোখ তুলে দেখলাম আত্রেয়ীর চোখও টিভির দিকে নয়। 

পোলাও পর্ব শেষ করে বুঝলাম পেটে আর জায়গা নেই। 
"বুঝলে রাবড়িটা নাহয় কাল... আজ আর পেটে জায়গা নেই।"
"ওইটুকু খেলে কিছু হবেনা। তাছাড়া তুমি এত ভালোবাসো। আমি কষ্ট করে আনলাম। আজকের দিনে না কোরোনা প্লীজ।" 
হালকা হেঁচকি তুলে বললাম, "আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে।"
মুখে হালকা মিষ্টি হাসি রেখে রাবড়িটা খেয়েই নিলাম। না খেয়ে রাগিয়ে দেওয়ার কোনো মানেই হয়না। তবু মনের ভিতরে খচখচটা রয়েই গেল, দিনটা যে ঠিক কেনো স্পেশাল!!

চার: 

ছোটবেলায় ভূগোলে পড়েছিলাম, পৃথিবীর দুই রকমের গতি— আহ্নিক আর বার্ষিক গতি। এক একটা দিন কত ক্ষণিকের মধ্যে কেটে গেলেও একটা বছর পার হতে হতে কত কিছু বদলে যায়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথেই আমাদের বয়স একটু একটু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রত্যেক বছরেই একটা বসন্ত থাকে, সেটা অন্য বছরগুলোর মতোই চিরনবীন। এই যে এত কাব্যি করে এসব বলছি হঠাৎ, তার কারণ ডিনারের পর বারান্দা থেকে সিগারেট খেয়ে ঘরে ঢুকে আত্রেয়ীকে দেখে বসন্তের কথা মনে পড়ল। মনে হচ্ছে পৃথিবীর বার্ষিক গতিটা বোধহয় বিপরীতমুখী হয়ে আত্রেয়ীর বয়স কমিয়ে দিয়েছে বেশ কয়েক বছর। আত্রেয়ী আমাদের হানিমুনের প্রথম রাতে যে হালকা ফিনফিনে গাউনটা পড়েছিল সেটা পড়ে। 
আমি খাটে গিয়ে হেলান দিয়ে বসলাম। আমার ঠিক পাশে এসে বসে আমার বুকে হালকা করে মুখ গুঁজে দিলো আত্রেয়ি। আমি বাম হাত দিয়ে ওর কাঁধের পাশ থেকে জড়িয়ে ধরলাম।

"আমি জানতাম তোমার ঠিক মনে থাকবে। সরি।"

বুকের ধুকপুকানিটা আবার বাড়তে থাকল। সেই অবস্থাতেই বললাম,"সরি বলার কি হল অতু!"
"না মানে তুমি অফিস থেকে ফিরে এসে কিছু বললে না। তাই তুমি স্নান ঘরে যেতেই তোমার ব্যাগ হাতড়ালাম। ভাবলাম কি এনেছ দেখি। তারপরেই পেলাম সেই মিল্কিবার। সব মনে রেখেছ তুমি। এই মিল্কি বার দিয়েই তুমি প্রপোজ করেছিলে আমায় আজকের দিনে আজ থেকে দশ বছর আগে..."
আমার মনে মনে একটা স্বস্তির ঢেউ খেলে গেল। এতক্ষণে খেয়াল হল, কলেজের বাইরে মানুদার ঘুগনির দোকানের সামনে, আজকের দিনেই প্রপোজ করেছিলাম আত্রেয়ীকে। ফার্স্ট সিটি মেরেছিল মানুদাই। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো রীতিমত। আত্রেয়ী তখনও বলে চলেছে,"... তুমি নিঃসন্দেহে মিল্কিবারটা দিয়ে আমায় সারপ্রাইজ দিতে ছেয়েছিল। ইশশ্.. একটুও ধৈর্য্য নেই আমার।"
"তাতে কী হয়েছে অতু। তুমি হ্যাপি তো?"
"নাহ্। আগে নিজে হাতে খাইয়ে দাও আমায়", বলে আত্রেয়ী মিল্কিবারটা এগিয়ে দিলো আমার দিকে। সেই সাথে ওর নরম গাল দুটো আমার সদ্য কাঁচাপাকা দাঁড়িওয়ালা গালে ঘষতে ঘষতে ঠোঁটদুটো কাছাকাছি এগিয়ে এল...।

You can share this post!

জালিয়াতির শিকার খোদ দেশের রাষ্ট্রপতি, মাইনে থেকে প্রতি মাসে গায়েব হয়ে যাচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা!

বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নিজে হাতে বাছবেন অমিত শাহ

author

Sunday Times Kolkata

By Admin

0 Comments

Leave Comments