করোনা: ডাক্তারদের নিরাপত্তার দাবি বাংলাদেশে 

খবর রাজনীতি-সামাজিক

ওমর আলী, ঢাকা

করোনা আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সবার আগে ডাক্তার-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস নামের বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একটি সংগঠন।

বুধবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে চললে, দেশে যদি কোভিড১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ে, তাহলে ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা পড়বে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে। যে কারণে তাদের পেশাগত দায়িত্বপালনকালিন নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সুস্থ না থাকে, নিরাপদ না থাকে তাহলে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কী হতে পারে তা আমরা ভাবতেও পারছি না বলে উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিবৃতি দেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

ডঃ মিল্টন বলেন, চীনের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, করোনা রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পোষাকসহ গ্লাভস, চোখ ঢাকার জন্য গগলস সরবরাহ করতে হবে। এক কথায় যাকে বলে, ‘প্রাইভেট প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় যারা করোনার স্ক্রিনিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত, যারা ল্যাবরেটরিতে করোনার বিভিন্ন স্যাম্পল পরীক্ষায় নিয়োজিত, তাদের সবাইকে পিপিই প্রদান করতে হবে। এ ব্যাপারেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুস্পষ্ট গাইড লাইন দেওয়া আছে, সেটা অনুসরণ করতে হবে।

দেশে মজুদ না থাকলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে জরুরী ভিত্তিতে আমদানী করার দাবি জানান ডঃ মিল্টন। তিনি বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ডিজপোজাবল এসব পিপিই সেটের দাম তেমন বেশী নয়। প্রয়োজন শুধু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। পর্যাপ্ত সময় পেয়েও পিপিইর মত জরুরী ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী সরবরাহে কর্তৃপক্ষের বিলম্বে আমরা উদ্বিগ্ন।

ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকার বিষয়ে

বিবৃতিতে বলেন, আপনারা নিজেদের শরীরের প্রতি যত্নশীল হবেন। অতিরিক্ত কাজের চাপেও যতটুকু সময় পাওয়া যায় ঘুমিয়ে নিতে হবে, ঠিকমত খাওয়াদাওয়া করতে হবে এবং যতটা সম্ভব এক্সারসাইজ করতে হবে। এ সময়ে ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক-মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকাটাও জরুরী।

যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার মত বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও বাংলাদেশের ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা সরকারের পাশে থাকবেন বলে বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *