দু’দিন ধরে জল-বিদ্যুৎ নেই, নিষ্ক্রিয় সরকার, পুরসভা, ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

খবর

আমপানের ছোবলে লন্ডভন্ড কলকাতা। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার আপাতত কোনও চিহ্ন নেই। উল্টে জল, বিদ্যুতের দাবিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাত পর্যন্ত চলছে বিক্ষোভ, অবরোধ। হুগলির উত্তরপাড়াতে অবরোধ ঘিরে অশান্তি বাধে। পুলিশ লাঠি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল গতিতে শহরের বুক দিয়ে বয়ে যায় অতি-ঘূর্ণিঝড় আমপান। সেই ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। সেই ক্ষত এখনও স্পষ্ট শহরের বুকে। বিভিন্ন রাস্তায় পড়ে রয়েছে বড় বড় গাছ। পড়ে রয়েছে ট্রাফিক সিগন্যাল পোস্ট। ফলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন  এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পৌঁছচ্ছে না জলও। শহর জুড়ে চলছে হাহাকার। শহরবাসীর অভিযোগ, গত দু’দিন হয়ে গেলেও তাঁরা না পাচ্ছেন জল, না পাচ্ছেন আলো। সেই সঙ্গে মরার উপর খাঁড়ার ঘা, মোবাইলে সংযোগের দুরবস্থা। যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কারও সঙ্গে।  বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা পরিজন কোথায় রয়েছেন, কেমন রয়েছেন, তা জানা যাচ্ছে না, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে।

ইএম বাইপাস, বেহালা থেকে টালিগঞ্জ, গড়িয়া থেকে যাদবপুর ও উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় একই ছবি ফুটে উঠছে। এদিন জল এবং বিদ্যুতের দাবিতে টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডও অবরোধ করেন সেখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরাতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। এবং জলের ব্যবস্থা করতে হবে। যত ক্ষণ পর্যন্ত এই তিন দাবি না মিটবে, তাঁরা অবরোধ চালাবেন। বুধবার দুপুর থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায় গড়িয়ার মহামায়াতলা এলাকায়। বেহালায় পুলিশের গাড়ি ঘরেও বিক্ষোভ দেখান সেখানকার মানুষ। রাজডাঙাতেও একই ভাবে জল ও বিদ্যুতের দাবিতে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা।

একই ছবি বেহালার শকুন্তলা পার্কেও। সেখানে বিশাল আকারের গাছ পড়ে গিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাস্তাকে। গাড়ি চলাচল স্তব্ধ। দু’দিন হয়ে গেল পুরসভার কোনও কর্মী সেই গাছ সরানোর উদ্যোগ দেখাননি বলে অভিযোগ। বেহালার বিভিন্ন এলাকা এখনও জলমগ্ন। বেহালা ট্রাম ডিপোর সামনে, ব্যাঙ্কের সামনে পড়ে রয়েছে গাছ। তারাতলা ফ্লাইওভারের উপর এখনও পড়ে রয়েছে লাইট পোস্ট। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্পের সাহায্যে পুরসভার জল রিজার্ভারে তোলা যাচ্ছে না। তার ফলে জলের সংকট তৈরি হয়েছে। রাস্তায় কল অধিকাংশই ভাঙা। ফলে সেখান থেকেও জল পাওয়া যাচ্ছে না। যে দু-একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে প্রচুর মানুষের লাইন পড়ছে।

বি টি রোডেও এ দিন একাধিক জায়গায় অবরোধ হয়েছে। বেলঘরিয়া রথতলার মোড়ে এ দিন সকালে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় বিদ্যুৎ নেই এবং বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে রয়েছে। প্রশাসন এবং পুরসভা নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *