টানা এক ডজন বাজেট ঘোষণা করে নজির স্থাপন করলো আওয়ামীলীগ

বাংলাদেশ

রোটারিয়ান জহুরুল ইসলাম, ঢাকা: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা এক ডজন বাজেট ঘোষণা করে নজির স্থাপন করেছে। অতীতে আর কোনো সরকার এমন নজির গড়তে পারেনি। তবে এশিয়ার বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে ২২তম বাজেট উপহার দিয়েছে জনসাধারণকে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন সরকারের ১৮তম। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা যাতে বাংলাদেশকে দুর্বল করতে না পারে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই বাজেট ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

সূত্র মতে, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে টানা তিন দফায় শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। এর মধ্যে প্রথম দুই মেয়াদে অর্থাৎ ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের হয়ে টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের ২২তম এবং অর্থবছরের টানা ১২তম বাজেট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল এর আগে টানা ১২টি বাজেট উত্থাপনের নজির গড়তে পারেনি। দেশের ইতিহাসে বাজেট ঘোষণায় রেকর্ড করল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালের ৩০ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতাধীন সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ উপস্থাপিত সেই বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। এরপর ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাজেট পেশ করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

১৯৭৫ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সরকারের দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে ড. এআর মল্লিক বাংলাদেশের চতুর্থ বাজেট উপস্থাপন করেন- যা ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের শেষ বাজেট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর টানা ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার এবং শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন সরকার প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা ছয়টি (২৬ থেকে ৩০তম) বাজেট পেশ করেন। এএমএস কিবরিয়ার ২০০১ সালের পেশ করা ৩০তম এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দশম বাজেট ছিল।

সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ সকাল ১১টায় অনলাইন ব্রিফিংয়ে প্রতিক্রিয়া তুলে ধরবেন। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব মানবকণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আগে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।

তারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এক টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশের উন্নয়নের ট্রেন চলছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই লড়ছেন। দেশের বিভিন্ন বিষয়কে বিশ্লেষণ করেন তিনি। বাজেট ঘোষণার আগে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক মানবকণ্ঠকে বলেন, টানা ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১২টি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি (শেখ হাসিনা) বাজেট ঘোষণা দেয়ার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বা দেশের জনগণের প্রতি যে ওয়াদা রয়েছে তা সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেন। তবে এবার কার বাজেটে একটু ভিন্নতা রয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারীর কারণে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। এই অর্থনৈতিক মন্দা যাতে বাংলাদেশকে দুর্বল করতে না পারে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে সেই লক্ষ্য রেখেই এই বাজেট দিয়েছে। এই বাজেটের মধ্য দিয়ে সমস্ত শ্রেণি পেশার মানুষের মনে আশা পূরণ করেছে।

এদিকে বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবারের বাজেট ভিন্ন বাস্তবতায়, ভিন্ন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে। এ বাজেট করোনার বিদ্যমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেয়ার বাস্তবসম্মত প্রত্যাশার দলিল।

তিনি আরো বলেন, জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকারের সাহসী সময়োচিত চিন্তার সোনালি ফসল এই বাজেট। এবারের বাজেট জনগণের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উত্তরণের পরিকল্পনা এবং জনবান্ধন ও জীবনঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *