কলকাতার বনেদিবাড়ির দূর্গাপুজোর ইতিহাসে হরিনাথ মুখার্জ্জীর বাড়ি

উৎসব-সংস্কৃতি খবর

রিমি রায় – কলকাতার সার্বজনীন দূর্গোৎসব কিংবা থিম পূজোর মতো খুবই জনপ্রিয় বনেদি বাড়ির দূর্গাপুজো।উত্তর থেকে দক্ষিন শহর জুড়ে এরকম অনেক বাড়িই আছে যেখানে বিভিন্ন প্যান্ডেলের মতো প্রতিমা দেখার ভিড় পরে সাধারন দর্শকদের।আবার পরিবারের সদস্যরাও সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য।
এমনই একটি বাড়ির দূর্গাৎসবের অন্দরের কাহিনী শোনাব আপনাদের। কলকাতার উত্তরের রাজাবাজারের হরিনাথ মুখার্জ্জী বাড়ির দূর্গাপুজোর ইতিহাস বহু পুরোনো। প্রত্যেকটি বাড়ির মতোই এই বাড়ির ইতিহাসে রয়েছে বেশ কিছু আলাদা রীতি।বাড়ির বর্তমান উত্তরাধিকারী শ্রী ইন্দ্রনীল মুখার্জীর তথ্য অনুযায়ী এই বাড়ির পুজো এই বছর ২৯৭ তম |এই বাড়ির পুজো শুরু হয় ১৭২২ সাল থেকে , যখন শ্রী হরিনাথ মুখার্জী তাদের চন্দননগরের গোন্দলপাড়ার পৈতৃক জমিদারবাড়ি ছেড়ে কলকাতায় মাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন | পুজো শুরুর পারিবারিক ইতিহাসের গল্প বেশ চমকপ্রদ।পরিবারের সদস্যদের থেকে শোনা যায় হরিনাথ বাবুর দাদু চন্দননগরের বাড়ির জমিতে লাঙ্গল দিতে গিয়ে পেয়েছিলেন এক ধাতুর ঘট। আর সেই ঘটই কলকাতায় আসার সময় হরিনাথবাবু আনেন সঙ্গে।শোনা যায়, ঘট উদ্ধারের পর একদিন হরিনাথবাবুর দাদু স্বপ্নে দৈবিক নির্দেশ পান মা মঙ্গলচন্ডির নিত্য সেবার জন্য |আর সেই নির্দেশ মতোই রাজাবাজারের বাড়িতে হরিনাথ বাবু দেবী মঙ্গলচণ্ডীকে প্রতিষ্ঠা করেন কুলদেবী হিসেবে |
পরে দৈবিক নির্দেশানুসারে হরিনাথবাবু বাড়িতে শুরু করেন দুর্গা পুজো। পরবর্তীকালে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে পাটের ব্যবসা শুরু করেন ও অনেক প্রতিপত্তি লাভ করেন এবং বর্তমান বাড়ি ও ঠাকুরদালান তৈরী করেন | পারিবারিক বিশ্বাস অনুযায়ী সবই মায়ের আশীর্বাদে হয়। প্রত্যেকটি বনেদিবাড়ির মতো এই বাড়ির ঠাকুরদালান খুব বড় নয় তবে বেশ আকর্ষণীয়। দালানের বাইরের অংশ রংবেরঙের ফুল ও বিভিন্ন মূর্তির নকশা দিয়ে তৈরি | দালানের দুদিকে দুটি মূর্তি রাখা যাদেরকে আশ্চর্যভাবে মনে হতে পারে আফ্রিকান বলে | তাদের পায়ে শিকল পরানো দেখে বোঝা যায় যে তারা হয়তো ভৃত্য | হয়তো বা সেই মূর্তিগুলি হাবশীদের , প্রি-ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ভৃত্যগন |এরকম নানা ছোট-বড় গল্প দিয়ে তৈরি বাড়ির ইতিহাস।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিহাস বদলালেও ,পুজো প্রায় ৩০০বছরের কাছাকাছি চলে এলেও আজও পরিবারের সদস্যরা একই নিয়মে পালন করে চলেছেন পুজোর আঁচারবিধি।