ঐতিহ্যের পরম্পরা মেনে কৃষ্ণ-নবমী থেকে শুরু হল আন্দুল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো

উৎসব-সংস্কৃতি খবর

সুরজিৎ আঁকুড়ে:- ১৭৭০ সাল, কোনো গল্পকথা নয় ঐতিহাসিক সত্য।আন্দুল-রাজ রামলোচন রায় সেবারই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। ক্লাইভের দেওয়ান, কারন মানুষ ছিলেন রামলোচন। আটটি মৌজায় বিস্তৃত তাঁর জমিদারি। ক্লাইভের সুপারিশে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘রাজা’ উপাধি। সেই ক্লাইভের পরামর্শেই আন্দুল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা। তাঁর অনুগত ‘রাজা’কে উৎসাহ দিতে প্রথমবারের সেই পুজোয় উপস্থিত হয়েছিলেন লর্ড ক্লাইভ। সঙ্গে এনেছিলেন দশ হাজার টাকার সন্দেশ। দেবীর পাদপদ্মে নিবেদনের জন্য ১০৮টি পদ্ম ও এক হাজার টাকা প্রণামীও এনেছিলেন ওই ইংরেজ সাহেব। আর সেদিনই সূচনা হল রাজবাড়ির এক ঐতিহ্য। যদিও সেই ঐতিহ্য আড়ম্বর-আভিজাত্যের। কামান গর্জন, তূর্যধ্বনি, আলোর রোশনাই, কাঙালি ভোজন, নাচমহলের বেলোয়ারি ঝাড়ের টুংটাং শব্দের সঙ্গে বাইজিদের মুজরা- সেই আভিজাত্যেরই স্মারক ছিল। বিষাণ বাজিয়ে, তূর্যধ্বনিতে রাজবাড়ির শারদ-বন্দনায় একটি মহিষ, ১২টি ছাগল উৎসর্গ করা হয়েছিল সেবার। তবে এখন আর সেই জৌলুস নেই বললেই চলে। তাই বলে ঐতিহ্য রক্ষায় খামতি নেই কোথাও। রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য অরুণাভ মিত্র জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কামান গর্জন ও বলি বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুজোর রীতি পূর্বের মতই আছে। কৃষ্ণ-নবমী তিথিতে কল্পারম্ভ হওয়ার রীতি আজও চলে আসছে সমানে। আজও সেই পরম্পরা রয়েছে। আজ অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর থেকে মায়ের পুজো সেই রীতি মেনেই শুরু হল। পুজোর ১২দিন আগেই বসে রাজবাড়ির পুজোর আসর। রাজবাড়ির মাঠে বসে মেলা। তবে করোনা আবহের জন্য পরিবর্তণ হয়েছে ঐতিহ্যে। এখন রাজবাড়ির সদস্যরা স্বয়ং শামিল হন ধুনুচি নাচে। অষ্টমীর দিন রাতে এই ধুনুচি নাচে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুজোর রাজবাড়িতে। মন্দিরের আদলে এসেছে আধুনিকতার স্পর্শ। বেলোয়ারি ঝাড় নেই, লাগানো হয়েছে আধুনিক মানের ঝাড়বাতি। এখনও রীতি মেনেই আটমণ মাটি দিয়ে তৈরি হয় একচালা প্রতিমা। বাহন সিংহের মুখ ও গ্রীবাদেশ ঘোড়ার মতো।